নয়াদিল্লি : দেশে ভালাে মাইনের চাকরি, অর্থনৈতিক অনাহার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা কলকাতার।
চাকরি এবং অর্থনৈতিক বিকাশে সবার আগে রয়েছে বেঙ্গালুরু, খাদ্যসুরক্ষায় এগিয়ে রয়েছে কোচি।
মঙ্গলবার নীতি আয়ােগ (Niti Aayog) শহরাঞ্চলের স্থায়ী উন্নয়ন বিষয়ক SDG এর সূচক রিপাের্টে উঠে এসেছে এই তথ্য। সামগ্রিকভাবে সিমলা, কোয়েম্বাটোর, তিরুবনন্তপুরম এই তিনটি অঞ্চল সূচকের শীর্ষে রয়েছে। একেবারে নিচের তালিকার দিকে রয়েছে ধানবাদ, মীরাটের নামও। সবমিলিয়ে ১৫ টি মাপকাঠির ভিত্তিতে নীতি আয়ােগ এই সূচকের ‘স্কোর বা নম্বর নির্ধারিত করেছে। সাধারণ পরীক্ষার মতােই এখানে মােট নম্বর ১০০।
ভালাে মাইনের চাকরি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বিষয়ক লক্ষ্য- মাত্রায় কলকাতা একশোয় পেয়েছে মাত্র ৩। পরীক্ষার ফলাফলের ভাষায়, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর ডাঁহা ফেল।
বেঙ্গালুরু ৭৯ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে হিমাচল প্রদেশের রাজধানী সিমলা প্রাপ্ত নম্বর ৭৫.৫। তৃতীয় স্থান অধিকারী কোয়েম্বাটোর (৭৩.২৯)। তারপর তিরুবনন্তপুরম প্রাপ্ত নম্বর (৭২.৩৬), চণ্ডীগড় (৭২.৩৬), কোচি (৭২.২৯)। ভারতের কয়লার রাজধানী হিসাবে পরিচিতি ধানবাদের ‘পারফরমেন্স সবথেকে খারাপ। প্রাপ্ত নম্বর ৫২.৪৩। তার আগে অর্থাৎ শেষ পাঁচে মীরাট (৫৪.৬৪), ইটানগার (৫৫.২১১),গুয়াহাটি (৫৫.৭৯) এবং পাটনা (৫৭.২৯)।
নীতি আয়োগের মতে,যে শহর ৬৫ থেকে ৯৯ নম্বরের মধ্যে রয়েছে, তারা ‘ফ্রন্ট রানার'। অর্থাৎ একদম সামনের সারিতে থাকা শহর। তার পরের ধাপে ৫০ থেকে ৬৪'র মধ্যে নম্বর থাকলে তারা পারফর্মার’ বা মাঝারি মাপের বলে গণ্য হয়। পঞ্চাশের নিচে থাকা নম্বর ‘অ্যাসপিয়ান্টস' বা যাদের আরও ভালো করতে হবে যে ১৫ টি প্যারা-মিটারের ভিত্তিতে এই স্কোরবাের্ড তৈরি হয়, তার আটটি নির্ভর করে ভালাে মাইনের চাকরি এবং অর্থনৈতিক বিকাশের উপর।
মূল লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট হয় প্রধানত ১২ টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে, তার মধ্যে আবার অন্যতম সমমানের কাজে সমবেতন, বেকারত্ব হ্রাস এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশ।
নীতি আয়ােগের বক্তব্য,বেঙ্গালুরু ছাড়া দেশের অধিকাংশ বড় শহরই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালে ১৭টি বিষয়কে সামনে রেখে এই সূচক রিপাের্টের প্রস্তাব গৃহীত হয়। বিশ্বে দারিদ্র্য দূর করতে, বিশ্বকে রক্ষা করতে এবং ২০৩০ এর মধ্যে যাতে প্রত্যেক বিশ্ববাসী শান্তি ও সমৃদ্ধি উপভােগ করতে পারে তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এর মধ্যে নীতি আয়ােগ দুটি বিষয় বাদ দিয়েছে- জলের নিচে জীবন এবং লক্ষ্যপূরণে অংশীদারিত্ব। বাকি ১৫ টি বিষয়ের মধ্যে অন্যতম ভালাে মাইনের চাকরি ও অর্থনৈতিক বিকাশ, জিরাে হাঙ্গার, দারিদ্র দূরীকরণ, অসমতা রােধ, লিঙ্গ সাম্য, উন্নতমানের শিক্ষা, স্বচছ, জল এবং নিকাশি ইত্যাদি।
ভালাে মাইনের চাকরি এবং অর্থনৈতিক বিকাশের নিরিখে কর্ণাটকের রাজধানী শহর বেঙ্গালুরুর পরই রয়েছে ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুর (৬৪), উত্তরাখণ্ডের রাজধানী শহর দেরাদুন (৫৯) এবং গােয়ার পানাজি (৫৯)। কিন্তু সার্বিক হিসাবে এরা মাঝারি মানের শহরের মধ্যেই পড়ছে। যে ৫৬টি শহরের মধ্যে সমীক্ষা হয়েছে, তার
মধ্যে মাত্র ১৩টি শহর পঞ্চাশের বেশি নম্বর পেয়েছে বলে জানিয়েছে নীতি আয়োগ।
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই পেয়েছে মাত্র ১৭ নম্বর। একই নম্বর পেয়েছে পাটনাও। গুজরাটের আমেদাবাদ, সুরাট, উত্তর প্রদেশের সাত শহর, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, দেশের রাজধানী শহর। দিল্লি, তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের নম্বর ৫০ এর নিচে। ভালো মাইনের চাকরির নিরিখে সমস্ত শহরের গড় নম্বর মাত্র ৩৮।
খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং অপুষ্টি দূরীকরণের লক্ষ্যে ‘জিরাে হাঙ্গার' বিভাগেও অত্যন্ত খারাপ অবস্থা শহরগুলির। এক্ষেত্রেও কলকাতা সবথেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এই পর্যায়ে শীর্যে রয়েছে কোচি (৮০), ইম্ফল (৭৩), কোহিমা (৭০)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Please do not enter any spam link in the comment box.