Dhaka ISKCON : ফের বাংলাদেশে মন্দিরে হামলা। ঢাকার ইসকন রাধাকান্ত মন্দিরে 'নারা-ই-তাকবীর ও আল্লাহু আকবর' শ্লোগান দিয়ে মূর্তি ভাঙচুর-লুটপাঠ। - Probaho Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

শনিবার, ১৯ মার্চ, ২০২২

Dhaka ISKCON : ফের বাংলাদেশে মন্দিরে হামলা। ঢাকার ইসকন রাধাকান্ত মন্দিরে 'নারা-ই-তাকবীর ও আল্লাহু আকবর' শ্লোগান দিয়ে মূর্তি ভাঙচুর-লুটপাঠ।

Vandalise loot at iskcon Radhakanta temple in dhaka

ঢাকা : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ওয়ারী এলাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটে অবস্থিত ইসকন মন্দিরে (Iskcon Temple) মুসলিম কট্টরপন্থীদের একদল লোকের দ্বারা হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ১৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) হওয়া হামলার ভিডিওটিও সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মৌলবাদীদের একটি দল 'নারা-ই-তাকবির, আল্লাহ হু আকবার' এর স্লোগান দিচ্ছে। হামলায় মন্দিরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।


'ভয়েস অফ বাংলাদেশি হিন্দু' (Voice of Bangladeshi Hindu) নামের একটি টুইটার হ্যান্ডেলে এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি শেয়ার করা হয়েছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ইস্যু উত্থাপনকারী হ্যান্ডেলটি জানিয়েছে “ঢাকার রাধাকান্ত ইসকন মন্দিরে হামলা অব্যাহত রয়েছে। শ্রদ্ধালুরা পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রদ্ধালুও আহতও হয়েছেন। ভিডিও -তে পুরো ঘটনা বর্ণনা করতে দেখা যায় এক শ্রদ্ধালুকে। এই ভিডিওতে আক্রান্ত নিহাল হালদার বলেছেন, “ফিরে আসার সময় ওরা (জনতা) আমাকে ধরে ফেলে। আমার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমার পিঠে আঘাত করা হয়।"

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫০-২০০ মুসলিম হামলাকারী এই ঘটনায় জড়িত ছিল। হামলাকারীদের এই ভিড়ের নেতৃত্ব দিচ্ছিল হাজী সফিউল্লাহ। ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন সুমন্ত্র চন্দ্র শ্রাবণ, নিহার হালদার, রাজীব ভদ্র।

ঘটনার বিষয়ে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন বলেছে, “১৭ মার্চ রাত ৮ টার দিকে ৬২ বছর বয়সী হাজি সাইফুল্লাহর নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন মুসলমানের একটি ভীড় ওয়ারী থানার অন্তর্গত ইসকন মন্দিরে হামলা চালায়। তারা মন্দির ভাঙচুর করে এবং মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে। মন্দিরে রাখা টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রও লুট করা হয়। এ ঘটনায় হিন্দু সমাজের তিন জন শ্রদ্ধালু আহত হয়েছেন।

যারা হামলার শিকার হয়েছিল, নিজের নাম প্রকাশ না করার দাবি জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মিডিয়ার সমর্থন না পেলে আমরা হিন্দুরা এখানে থাকতে পারব না। তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এই মন্দিরের জমিতে উগ্রবাদী-দের নজর ছিল। এর আগেও তারা এখানে দখলের চেষ্টা করেছে, যার জন্য আমরা অভিযোগ করেছি। গত সন্ধ্যায় তারা মন্দিরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে।"

নিহাল হালদারের অভিযোগ অনুযায়ী, “এই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীরা হলেন মোহাম্মদ ইসরাফ সুফি (৩১) এবং হাজি সফিউল্লাহ (৬২)। হামলাকারীদের হাতে লাঠি, রড ও হাতুড়ি ছিল। মন্দিরের দক্ষিণ দিকের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়,সেখানে পুরনো নির্মাণ ছিল, সেগুলোও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই সব হামলাকারীরা দাঙ্গার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছিল।”

এই অভিযোগে আরও বলা হয়, “হামলাকারীদের মন্দিরের এগিয়ে যেতে দেখে মন্দিরের শ্রদ্ধালুরা মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এর পর পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশ এলেও নিহাল হালদারকে মারধর করা হয় এবং তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। নিহালকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই এ হামলা করা হয়েছে। মন্দির থেকে লুট হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। মন্দিরে পাথর ছোড়া হয়েছিল এবং ভিতরে উপস্থিত সমস্ত শ্রদ্ধালুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার জন্য উস্কানি দেওয়া হয়েছিল।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশে মন্দিরে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও, ২০২১ সালের অক্টোবরে, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় হিন্দু মন্দির, দোকান এবং বাড়িগুলিকে টার্গেট করেছিল ইসলামিক জনতা। সেই হামলায় ১০ জন হিন্দু নিহত এবং ২৩ জন নারী ধর্ষিত হয়েছিল। এছাড়া ১৭ হিন্দু নিখোঁজ হয়েছিল। হামলায় ১৬০ টি পূজা প্যান্ডেল ও মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি আড়াল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please do not enter any spam link in the comment box.

Post Top Ad