জম্মু : পণ্ডিতদের ঘরে ফেরানোর বিষয়ে আশাপ্রকাশ করলেন মোহন ভাগবত।
রবিবার এক ভিডিওবার্তায় আরএসএস প্রধান জানান, জম্মু ও কাশ্মীরে অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা উপত্যকায় ফিরে আসতে পারেন এবং এখান থেকে তাঁরা আর কখনও উৎখাত না হন। দ্য কাশ্মীর ফাইলস সিনেমাটির প্রশংসাও করেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan bhagwat)। তিনি জানান, এই সিনেমাটি দেশের ভিতর এবং বাইরের মানুষজনকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকা থেকে পলায়নের নেপথ্যে বাস্তব কারণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে পেরেছে।
রবিবার কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নববর্ষ অনুষ্ঠানের শেষদিনে অংশ নিয়ে ভাগবত বলেন,কাশ্মীরি পণ্ডিতরা যাতে উপত্যকায় নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেন সেই অঙ্গীকার পূরণ করার সময় এসে গিয়েছে। এই কাজটি করতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। খুব শীঘ্রই এটা সত্যি হবে। আমরা এই দিশায় কাজ করছি।
ভাগবতের সাফ কথা, ‘আমি মনে করি, আমরা সেই দিন থেকে খুব দূরে নেই যখন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা আবার তাঁদের ঘরে ফিরবেন। নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার সুনিশ্চয়তা নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরবেন।'
আরএসএস প্রধানের বক্তব্য, ‘কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সংকল্প নেওয়া নেওয়া উচিত যে, তাঁরা উগ্রপন্থার জন্য কাশ্মীর ছেড়েছিলেন কিন্তু তাঁরা যখন বাড়ি ফিরবেন তখন হিন্দু এবং ভারতভক্ত হিসেবেই ফিরবেন। আমরা এমনভাবে সেখানে বাস করব যাতে কেউ আমাদের আর উৎখাত করতে না পারে।'
সরসঙ্ঘচালক জানান, ‘কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ইস্যুটা যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ রদ এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে মিটতে পারে, সেটা আমি আগেই বলেছিলাম।২০১১ সালের পর থেকে গত ১১ বছর ধরে আমাদের সকলে যৌথ প্রচেষ্টার ফলে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ হটে গিয়েছে।'
অভিশপ্ত সেই দিনগুলির পর কেটে গিয়েছে ৩০ বছর। নিজ ভূমিতে পরবাসী হয়ে যাওয়া হাজার হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত-দের ঘরে ফেরা আজও হয়ে ওঠেনি। এই তিন দশকে প্রায় ১৪ বছর কেন্দ্রে সরকার চালিয়েছে কংগ্রেস। প্রায় সমান সময়ে ক্ষমতায় থেকেছে বিজেপিও,কিন্তু বাস্তব হল কোনও সরকারই কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি। যার ফল-স্বরূপ আজ উপত্যকায় বসবাস করছেন মোটে হাজার তিনেক কাশ্মীরি পণ্ডিত। বিতাড়িত এই পণ্ডিত-দের হাজার হাজার বাড়ি-ঘর, সম্পত্তি আজও পরিত্যক্ত। আরএসএস প্রধানের আশ্বাস, সেই বাড়িগুলি দ্রুত ফিরে পাবেন পণ্ডিতরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Please do not enter any spam link in the comment box.