Onion : পেঁয়াজের ছত্রাকজনিত রোগ ও তার প্রতিকারের উপায়। - Probaho Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

সোমবার, ৬ জুন, ২০২২

Onion : পেঁয়াজের ছত্রাকজনিত রোগ ও তার প্রতিকারের উপায়।

Onion fungus disease and its cure

পেঁয়াজের ক্ষতিকারক পোকা সঠিক সময় দমন না করলে ফলনের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। যেমন পেঁয়াজের মাছি, পেঁয়াজের চশি পোকা, পাতা খেকো শুঁয়োপোকা, যাব পোকা, পেঁয়াজের ম্যাগট- এগুলি খুবই ক্ষতিকর। কৃষি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে জমিতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক দিতে হবে ফসল বাঁচানোর স্বার্থে।


পেঁয়াজের ছত্রাকঘটিত রোগে কী প্রতিকার করতে হবে :

পার্পল ব্লচ বা ব্লাইট রোগ পেঁয়াজে দেখা যায় ছত্রাকের সংক্রমণে। এই রোগ বীজ, বায়ু ও গাছের পরিত্যক্ত অংশের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। অতিরিক্ত শিশির,আর্দ্র আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত হলে এ রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই রোগের ফলে প্রথমে পাতা ও বীজবাহী কাণ্ডে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভেজা বাদামি বা হলুদ রঙের দাগের সৃষ্টি হয়, তারপর দাগগুলি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে বড় দাগে পরিণত হয়। দাগের মধ্যবর্তী অংশ প্রথমে লালচে বাদামি ও পরবর্তীতে কালো বর্ণ ধারণ করে এবং দাগের কিনারা বেগুনি বর্ণ ধারণ করে। আক্রান্ত পাতা উপরের দিক থেকে ক্রমান্বয়ে মরে যেতে থাকে। বীজবাহী কাণ্ডের গোড়ায় আক্রান্ত স্থানের দাগ বৃদ্ধি পেয়ে হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এ রোগের আক্রমণের ফলে বীজ অপুষ্ট হয় এবং ফলন হ্রাস পায়। এই রোগের প্রতিকারে প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, তা হল, সুস্থ, নীরোগ বীজ ও চারা ব্যবহার করতে হবে। রোগ সহনশীল, প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

প্রোভেক্স বা রুভরাল ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। বট্রাইটিস লিফ ব্লাইট রোগের কারণও ছত্রাক। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে, তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে এবং গাছ খুব ঘন হলে এই রোগ বিস্তার লাভ করে। এর ফলে পাতায় প্রথমে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়,যেগুলোর চারদিক সবুজ রং দ্বারা ঘেরা থাকে।

ছত্রাক প্রাথমিকভাবে পাতায় আক্রমণ করে, অনেকগুলো দাগ একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করে, যার ফলে পাতায় ডাই ব্যাক এর লক্ষণ দেখা যায়। এই রোগের প্রতিকারে প্রথমেই রোগাক্রান্ত পেঁয়াজের গাছ ধ্বংস করতে হবে। পরে গভীর চাষ দিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। সুস্থ গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ব্যভিষ্টিন বা প্রোভেক্স প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।

ছত্রাকজনিত কারণেই কাণ্ডকন্দ পঁচা রোগের লক্ষণ দেখা যায় পেঁয়াজ গাছে। এই রোগের জীবাণু মাটিতে বসবাস করে। অধিক তাপ ও আর্দ্রতাপূর্ণ মাটিতে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

আক্রান্ত ফসলে সেচ দিলেও এ রোগ বৃদ্ধি পায়। স্কেরোসিয়াম রফসি দ্বারা আক্রান্ত গাছ হাত দিয়ে টান দিলে খুব সহজেই মাটি থেকে পেঁয়াজ সহ উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে পচন ধরে ও সরষের দানার মত বাদামী বর্ণের গোলাকার স্কেরোসিয়া দেখা যায়। যদি ফিউজারিয়াম দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। হাত দিয়ে টান দিলে সহজেই মাটি থেকে উঠে আসে না। উভয় ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হলে কাণ্ডে পচন ধরে এবং আক্রান্ত পেঁয়াজ গুদাম-জাত করা হলে সংরক্ষিত পেঁয়াজের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে থাকে। এর প্রতিকারে অবশ্যই সুস্থ, নীরোগ বীজ ও চারা ব্যবহার করতে হবে। বীজ উপকারী ছত্রাক ট্রাইকোডারমা দ্বারা শোধন করে বপন করতে হবে। প্রোভেক্স-২০০ বা ব্যভিষ্টিন প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ কন্দ শোধন করে বপন করতে হবে। মাটির উপযুক্ত আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে ও উপযুক্ত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please do not enter any spam link in the comment box.

Post Top Ad